বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফি
Health & Wellness

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফি: পদ্ধতি এবং গুরুত্ব

করোনারি এনজিওগ্রাফি হল একটি ইমেজিং পরীক্ষা যা হৃৎপিণ্ডের করোনারি ধমনীগুলির ছবি তৈরি করে। এই ধমনীগুলি হৃদপিণ্ডের পেশীগুলিতে রক্ত সরবরাহ করে। করোনারি এনজিওগ্রাফি হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এটি হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা করতেও ব্যবহার করা যেতে পারে।

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফি পদ্ধতি

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফি সাধারণত দুইটি পদ্ধতিতে করা হয়:

  • ট্রানসফেমোরাল করোনারি এনজিওগ্রাফি (TCFA): এই পদ্ধতিতে, একটি পাতলা নল (ক্যাথেটার) পায়ের কব্জি বা হাঁটুর কাছাকাছি একটি ধমনী দিয়ে প্রবেশ করা হয়। ক্যাথেটারটি তারপর হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পরিচালিত হয়।
  • ট্রানসবুর্সাল করোনারি এনজিওগ্রাফি (TBCA): এই পদ্ধতিতে, একটি ক্যাথেটার স্তনবৃন্তের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করা হয়।

উভয় পদ্ধতিতে, ক্যাথেটারের সাথে একটি ছোট ক্যামেরা সংযুক্ত থাকে। ক্যামেরাটি ধমনীর অভ্যন্তরের ছবি তৈরি করে। এই ছবিগুলি একটি মনিটরে দেখানো হয়।

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফির গুরুত্ব

করোনারি এনজিওগ্রাফি হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। এটি নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যেতে পারে:

  • হৃদরোগ নির্ণয়: করোনারি এনজিওগ্রাফি হৃদরোগ নির্ণয়ের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা। এটি হৃদপিণ্ডের ধমনীগুলিতে যেকোনো ব্লক বা ক্ষতি সনাক্ত করতে পারে।
  • হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন: করোনারি এনজিওগ্রাফি হৃদরোগের ঝুঁকি মূল্যায়ন করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দেখাতে পারে যে একজন ব্যক্তির হৃদরোগ হওয়ার কতটা সম্ভাবনা রয়েছে।
  • চিকিৎসা পরিকল্পনা: করোনারি এনজিওগ্রাফি চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে ব্যবহার করা যেতে পারে। এটি দেখাতে পারে যে একজন ব্যক্তির জন্য কোন চিকিৎসা সেরা হবে।

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ হাসপাতাল এবং পদ্ধতির ধরণের উপর নির্ভর করে। সাধারণত, TCFA পদ্ধতির খরচ TBCA পদ্ধতির চেয়ে বেশি।

ট্রানসফেমোরাল করোনারি এনজিওগ্রাফি (TCFA)

TCFA পদ্ধতিতে, একটি পাতলা নল (ক্যাথেটার) পায়ের কব্জি বা হাঁটুর কাছাকাছি একটি ধমনী দিয়ে প্রবেশ করা হয়। ক্যাথেটারটি তারপর হৃৎপিণ্ড পর্যন্ত পরিচালিত হয়।

বাংলাদেশে TCFA পদ্ধতির খরচ সাধারণত ১০০,০০০ থেকে ২০০,০০০ টাকা এর মধ্যে থাকে।

ট্রানসবুর্সাল করোনারি এনজিওগ্রাফি (TBCA)

TBCA পদ্ধতিতে, একটি ক্যাথেটার স্তনবৃন্তের মধ্য দিয়ে প্রবেশ করা হয়।

বাংলাদেশে TBCA পদ্ধতির খরচ সাধারণত ৮০,০০০ থেকে ১৫০,০০০ টাকা এর মধ্যে থাকে।

করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ কমাতে করণীয়

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ কমাতে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি নেওয়া যেতে পারে:

  • সরকারী হাসপাতালে করোনারি এনজিওগ্রাফি করানো যেতে পারে। সরকারি হাসপাতালে করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ বেসরকারি হাসপাতালের তুলনায় কম।
  • করোনারি এনজিওগ্রাফির জন্য সরকারি স্বাস্থ্য বীমা ব্যবহার করা যেতে পারে। অনেক সরকারি স্বাস্থ্য বীমা প্রতিষ্ঠান করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচের কিছু অংশ বা সম্পূর্ণরূপে বহন করে।
  • করোনারি এনজিওগ্রাফির জন্য দরপত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল নির্বাচন করা যেতে পারে। দরপত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল নির্বাচন করলে অনেক সময়
  • খরচ কমানো সম্ভব হয়।

বাংলাদেশে করোনারি এনজিওগ্রাফি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা যা হৃদরোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা পরিকল্পনা করতে ব্যবহৃত হয়। করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ হাসপাতাল এবং পদ্ধতির ধরণের উপর নির্ভর করে। সরকারি হাসপাতালে করোনারি এনজিওগ্রাফি করানো, সরকারি স্বাস্থ্য বীমা ব্যবহার করা এবং দরপত্রের মাধ্যমে হাসপাতাল নির্বাচন করলে করোনারি এনজিওগ্রাফির খরচ কমানো সম্ভব।

 

কার্ডিওলজি বাংলাদেশে আরও জানুন

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *